মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের উপর হামলা চালানো হবে ট্রাম্পেরই হুঁশিয়ারির পর, হামলা হলে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট স্তব্ধ হবে পাল্টা হুমকি ইরানের!
নভেম্বরে আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। ভোট শেষ হলেই ইরানে ফের বড়সড় হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। শুক্রবার তেমনই হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এর আগে শোনা গিয়েছিল, তেহরান এবার চোখ রাখছে সমুদ্রের নিচে। আমেরিকা বা ইজ়রায়েল ফের হামলা চালালে তারা ইন্টারনেট কেবল ধ্বংস করবে সমুদ্রের তলদেশে আক্রমণ করে। আর এই রণহুঙ্কারের পরই পালটা দিলেন ট্রাম্প! জানালেন, সেক্ষেত্রে আরও বড় হামলার মুখে পড়তে হবে ইরানকে।
শুক্রবার ফ্লরিডায় একটি সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলতে শোনা যায়, ”হয়তো এবার আমরা আরও ভয়ংকর হামলা চালাতে চলেছি।” সেই সঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, ”যদি ওরা বুদ্ধিমান হত, হয়তো বলত, চলুন, কাজের কথায় আসা যাক। কিন্তু আমার মনে হয় না ওরা তা করবে, কারণ সম্ভবত ওরা বুদ্ধিমান নয়।”
এর আগে জানা গিয়েছিল, ইরান পরিকল্পনা করছে আমেরিকা ও ইজরায়েল ফের হামলা করলে তারা এবার সমুদ্রে নিচে হামলা চালাবে। সত্যিই তা হলে ইন্টারনেটের তার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ অষ্টম মাসে পড়েছে। এমন সময়ে ইরানকে আসলে কারা পরিচালনা করছে তা কেউ জানে না। ট্রাম্প বলেন, “ওদের নেতারা নেই, দ্বিতীয় সারির নেতারাও নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, দেশটিকে ঠিক কারা চালাচ্ছে, তা কেউ জানে না।” যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান।
আসলে আপাতত যুদ্ধবিরতি চললেও, বাগযুদ্ধে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ফিনিশ দ্য জব’ মন্তব্যের পালটা এবার মুখ খুলে কড়া সুরে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, ”আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চাইলে আসুন। আপনাদের স্বাগত জানাতে আমরা তৈরি।” পাশাপাশি কড়া সুরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিনকে নিশানা করেন আরাঘাচি। সেই হুঁশিয়ারির পরের পর্বেই এবার সমুদ্রে নিচে হামলার হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গেল তেহরানকে। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই পালটা দিয়ে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন, যুদ্ধবিরতি সম্ভবত নেহাতই সাময়িক ব্যাপার।

